হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ|লক্ষণ,ঝুঁকি ও সমাধান
আসসালামু আলাইকুম স্বাস্থ্য টপিকে আবারো জানাচ্ছি আপনাদের স্বাগতম। আজকের স্বাস্থ্য টপিক “মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ” অর্থাৎ হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ কি? এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন এবং এই সময়ের করণীয় সমূহ।
মাসিক বা পিরিয়ড যা মেয়েদের জীবনের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। যা নারীর গর্ভাশয়কে গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত করে। আর এটি সাধারণত হয়ে থাকে শেষ পিরিয়ডের প্রথম দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে।

তবে বেশির ভাগ মেয়েদের ২৮ দিনের মধ্যে হয়ে থাকে। কিন্তু অনেক সময় এই চক্র তার ধারাবাহিকতায় বজায় না রেখে দীর্ঘ সময়ে চলে যায়। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় “অ্যামেনোরিয়া”।
অর্থাৎ দীর্ঘসময় মাসিক বন্ধ হয়ে থাকা বা অ্যামেনোরিয়া। যা সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যেমন;
- প্রাইমারি অ্যামেনোরিয়া
- সেকেন্ডারি অ্যামেনোরিয়া
প্রাইমারি অ্যামেনোরিয়া: মেয়ের বয়স যখন ১৫ থেকে ১৬ বছরে পারি দেয় অর্থাৎ সেই সময়, যেসময় তার পিরিয়ড আগে কখনো শুরু হয় নাই। স্বাভাবিক অবস্থায় এই সময়ে মেয়েদের মাসিক চক্র শুরু হয়ে যায়।
সেকেন্ডারি অ্যামেনোরিয়া: অর্থাৎ আগে নিয়মিত মাসিক হলেও হঠাৎ নির্দিষ্ট সময়ের পর পিরিয়ড না হওয়া অথবা তিন মাস বা তার অধিক সময় ধরে পিরিয়ড বন্ধ থাকা।
বিষয়টি আপনি হয়তো বুঝতে পেরেছেন আপনি কোনো অ্যামেনোরিয়া আছেন। আমরা এখানে আলোচনা করবো প্রাপ্ত বয়স হওয়ার পরও পিরিয়ড শুরু না হওয়া অর্থাৎ সাধারণত যে সময়কালে মেয়েদের পিরিয়ড শুরু হয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু তা হয় নি। তার কারণ ও করণীয় কী তা সম্পর্কে।
এবং তার সাথে, যাদের আগে নিয়মিত পিরিয়ড হতো কিন্তু এখন দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। তার কারণ কি ও এতে করণীয় অর্থাৎ হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ কি হতে পারে?এবং এই সময় ঘরোয়া ভাবে কি করণীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে তার বিস্তারিত।
তাই আর দেরি না করে এখনই জেনে নেয়া যাক স্বাস্থ্য টপিকের নতুন বিষয় “হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ ও করণীয় ” সম্পর্কে।
জেনে নিন; রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো খাবার|যা দেহকে কর্মক্রম রাখবে
হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ

প্রথমতো জেনে নেয়া যাক হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ সমূহ কি? এর মধ্যে আপনার যদি কোনোটিতে অভ্যস্ত থেকে থাকে বা তাতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে শীঘ্রই চিকিৎসকে পরামর্শ নেবেন।
- গর্ভধারণ
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ
- ওজন হঠাৎ কমে যাওয়া
- অতিরিক্ত ব্যায়াম
- হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
- পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা PCOS
- থাইরয়েডের সমস্যা
- জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রভাব
- মেনোপজের শুরু
- ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- দীর্ঘমেয়াদি রোগ
উপরোক্ত বিষয়গুলো হতে পারে আপনার হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ। এই বিষয়গুলো কেন ঘটে এবং এই সময় করণীয় কি? তা বিস্তারিত ভাবে স্বাস্থ্য সন্ধানের আলোকে তুলে ধরা হয়েছে।
গর্ভধারণ
গর্ভধারণ, যা হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ গুলোর একটি। এই জটিলতা বেশির ভাগ দেখা দেয় বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে বা যৌন সক্রিয় নারীদের মধ্যে।
তাই আপনি যদি বিবাহিত হয়ে থাকেন বা তিন থেকে চার মাস মিলন করে থাকে, সেইক্ষেত্রে আপনার মাসিক চক্র বন্ধ হয়ে পড়লে হতাশায় গস্ত না হয়ে প্রথমেই প্রেগন্যান্সির সম্ভাবনা রয়েছে কিনা তা পরিক্ষা করুন।
কেননা এই সময় আপনার শরীরের হরমোনের পরিবর্তন ঘটে এবং জরায়ুর আস্তরণ ভেঙে তা বের হতে পারে না। ফলে আপনার মাসিক বন্ধ হয়ে পড়ে।
এই সময় আপনার মধ্যে যে লক্ষণ সমূহ দেখা দিতে পারে :
- বমি বমি ভাব
- স্তনে ব্যথা বা ভারী অনুভূতি
- দুর্বলতা
- অতিরিক্ত ঘুম
- খাবারের রুচি পরিবর্তন
এধরণের লক্ষণ দেখা দিলে আপনি শীঘ্রই ঘরে Pregnancy Test Kit এনে অথবা নির্দিষ্ট কোনো সেবাকেন্দ্রে গিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্টের মাধ্যমে প্রেগন্যান্সির সম্ভাবনা রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হন।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ
আপনি হতো চিন্তা করছেন কিভাবে মানসিক চাপ হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ হতে পারে? আপনি জেনে অবাক হবেন স্বাস্থ্যবিদ-দের মতে বর্তমান বেশির ভাগ নারীদের হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ, মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। এটি সাধারণত নব-বিবাহিত নারীদের মধ্যে বেশি লক্ষণীয়।
যা নারীদের হরমোনের ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলে। আর এই সম্পর্কে অনেক মেয়েই অবগত নয়। তাই অরা হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ খুঁজতে থাকে।
যেভাবে “মানসিক চাপ” পিরিয়ড বন্ধ করে
যখন কোনো নারী স্ট্রেস হয় তখন মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ প্রভাবিত হয়। যা মেয়েদের মাসিক নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এর মধ্যে পড়ে নারীদের অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, হতাশা, ভয় বা মানসিক আঘাত যা হাইপোথ্যালামাসের কার্যক্রম ব্যাহত করে। যা হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ বা মাসিক সময়কাল দীর্ঘ হয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।
আর এর প্রবণতা বেশি হলে মাসিক সময়কাল কয়েক মাসে চলে যেতে পারে। তাই আপনার সঙ্গীনী বা প্রিয় জন এই সমস্যায় আছে কি’না তা খোলামেলা আলাপচারিতার মাধ্যমে জেনে নেয়ার চেষ্টা করুন।
ডায়েট করে ওজন হঠাৎ কমিয়ে আনা
হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার আরেকটি কমন কারণ হলো মেয়েদের অতিরিক্ত ডায়েটিং। যা এখনকার মেয়েদের ট্রেনডিংও বলা যেতে পারে। এতে করে হঠাৎ ওজন কমতে শুরু করে যা শরীরে প্রয়োজনীয় ফ্যাটও কমিয়ে ফেলে।
যার কারণ বসত শরীর পর্যাপ্ত ফ্যাট ও পুষ্টি না পাওয়া দেহে Estrogen হরমোন কমিয়ে ফেলে। আর আমরা সকলই জানি Estrogen হরমোন মাসিক এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এর ভারসাম্যহীনতা আপনার হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ হতে পারে।
জেনে নিন; ঈদ স্পেশাল গরুর মাংসের রেসিপি এর বিভিন্ন পদ
তবে ডায়েট ব্যতীত অনেকের এটি স্বাভাবিক ভাবেও ঘটতে পারে বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। যেমন;
- দীর্ঘ অসুস্থতা
- এবং অ্যানোরেক্সিয়া বা বুলিমিয়ার মতো খাদ্যজনিত মানসিক রোগে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
এতে আপনার করণীয়; আপনি যদি ডায়েটে থাকেন তাহলে আপনার খাদ্য তালিকা বেশি শাকসবজি ও পোষ্টকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন। আর যদি অন্যকোন শারীরিক সমস্যা অনুভব করুন তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অতিরিক্ত ব্যায়াম
আপনার অতিরিক্ত শরীরচর্চা বা ভারী ব্যায়াম যা পিরিয়ড বন্ধের কারণ হতে পারে। কারণ আপনার অতিরিক্ত শরীর চর্চার ফলে দেহের ফ্যাট কমে যায়। যা শরীরের হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে। এতে ডিম্বাশয়ের কার্যক্রম তুলনামূলক ভাবে কমতে থাকে যা আপনার হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ হয়ে ধারা।
তাই শরীরচর্চা করার পূর্বে অবশ্যই হরমোনের ভারসাম্য বজায় রেখে অর্থাৎ যে পরিমাণ ব্যায়াম করলে শরীরে প্রয়োজনীয় ফ্যাট বজায় থাকে। সে নিয়ম-মাফিক শরীরচর্চা চালিয়ে যান।
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
হরমোন“যাকে মাসিক এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপদানও বলা যেতে পারে। কেননা নারীদের মাসিক সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে হরমোনের ওপর। তাই যখন নারী-দেহে ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন, এফএসএইচ ও এলএইচ হরমোনের ভারসাম্যে সমস্যা হয় তখন পিরিয়ড বন্ধ হয়ে পড়ে।
সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা
- প্রোল্যাকটিন হরমোন বৃদ্ধি
- ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স
- থাইরয়েড সমস্যা
- পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা PCOS জনিত কারণে
এ ধরনের সমস্যায় যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে মুখে ব্রণ, অতিরিক্ত লোম, ওজন বৃদ্ধি এবং অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে।
Read now: বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেয়ার জন্য করণীও
জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রভাব
বর্তমান সময়ে অনেকেই জন্মনিয়ন্ত্রণ ঠেকাতে অপরিকল্পিত ভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে থাকে। যার মধ্যে অন্যতম হলো জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ব্যবহার।
যা বর্তমান সময়ে সচারাচর সকলেই তাদের জন্মনিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ করে নব-দম্পতি দের মধ্যে এর ব্যবহার বেশি দেখা যায়। এর কারণ বসত আপনার স্ত্রী বা সঙ্গীনির হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়।
যা পরবর্তীতে মেনোপজের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে অর্থাৎ স্থায়ী ভাবে মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও জন্মনিয়ন্ত্রণ ঠেকাতে আরো কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে সকলই যেমন;
- জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি
- হরমোনাল ইনজেকশন
- ইমপ্লান্ট
- হরমোনাল আইইউডি
তবে বিশেষ করে দীর্ঘদিন হরমোনাল ইনজেকশন ব্যবহার করলে এতে কয়েক মাস মাসিক না ও হতে পারে। যা আপনার হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ।
মেনোপজের শুরু হওয়া
মেনোপজ, অর্থাৎ স্থায়ী ভাবে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া। এটি সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের নারীদের মধ্যে দেখা দেয়। এ সময় ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং ধীরে ধীরে পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়। তবে অনেক নারীর ক্ষেত্রে ৪০ বছরের আগেই “প্রিম্যাচিউর মেনোপজ” দেখা দিতে পারে।
আপনি যেভাবে বুঝবেন আপনার মেনোপজের শুরু হয়েছে
- হট ফ্ল্যাশ
- ঘাম
- মেজাজ পরিবর্তন
- ঘুমের সমস্যা
- যোনিপথ শুষ্ক হওয়া
উপরুক্ত কারণ সমূহ আপনি যখন আপনার মধ্যে পরিলক্ষণ করবেন অর্থাৎ এই উপসর্গ দেখতে পাবেন তখন আপনি চিকিৎসকের কাছে গিয়ে মেনোপজের সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
সতর্কতা: এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে নিজে নিজে বা পার্শ্ব ফার্মেসি থেকে কোনো ঔষধ এনে তা গ্রহণ করবেন না। যা আপনার মানসিক ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ গুলোর আরেকটি অন্যতম বিষয় হলো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। অর্থাৎ কিছু ওষুধের প্রভাবে মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যেমন;
- মানসিক রোগের ওষুধ
- কেমোথেরাপি
- স্টেরয়েড
- উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধ
- হরমোনজনিত ওষুধ
বিশেষ করে আমরা মাসিক রোগের ঔষধ অর্থাৎ মাসিকে কোনো সমস্যা দেখা দিলে গাইনী চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে বা অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণহীন চিকিৎসকের কাছ থেকে ঔষধ গ্রহণ করে থাকি। যা পরবর্তীতে আপনার হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ হয়ে ধারা।
একইভাবে অপরিকল্পিত ভাবে বা অনিয়ম-তান্ত্রিক হারে হরমোনজনিত ওষুধ গ্রহণ করার ফলে, আপনার মাসিক চক্র ২ থেকে ৪ মাস বা মেনোপজের মতো স্থায়ীভাবে মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যা এখনকার বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে পরিলক্ষিত উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যায় অপরিকল্পিত ভাবে উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধ ব্যবহার। যা নারীদের হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ।
তাই আমাদের উচিৎ যেকোনো ঔষধ গ্রহণ করার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ ও নিয়ম-তান্ত্রিক ভাবে তা সেবন করা।
হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে বিশেষ করণীয়

হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ সম্পর্কে আপনি ইতিমধ্যে অবগত হয়েছেন। তাই আপার যদি হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হয়ে পড়ে তাহলে হতাশাগ্রস্ত না হয়ে তার কারণ চিহ্নিত করুন।
এতে করে আপনি খুব সহজেই ঘরোয়া ভাবে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে এর ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারবেন। এর জন্য আপনার করণীয় হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ জেনে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা। যেমন;
- স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
- সুষম খাদ্য গ্রহণ
- অতিরিক্ত ডায়েট এড়ানো
- নিয়মিত হালকা ব্যায়াম
- পর্যাপ্ত ঘুম
- মানসিক চাপ কমানো
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
তবে আপনার এইধরনের কোনো সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে সেক্ষেত্রে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া ব্যবস্থা করুন।
আশা করি আপনি হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ এবং করণীয় সম্পর্কে অবগত হতে পেরেছেন।
এটি নারীদের একটি কমন সমস্যা। যা সম্পর্কে অনেক নারী খোলামেলা কথা বলতে দ্বিধাগ্রস্ত করে। এতে সমস্যা দীর্ঘকালে পারি দেয়। ফলে পরবর্তীতে জটিল রুপ ধার করে।
তাই উচিৎ এই সম্পর্কে সঙ্গীনির সাথে বা নিকটতম পরিজনের সাথে খোলামেলা কথা বলা। এবং সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
তবে আপনার সঙ্গীনি বা নিকটতম কেউ যদি এধরণের সমস্যা পরে আর সে যদি আপনার সাথে খোলামেলা কথা বলতে চায় বা বলে। সেইক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার উচিত তার কথা গুরুত্ব সহকারে শোনা এবং তার সমস্যা বুঝার চেষ্টা করা।