আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। আজকের এই নিবন্ধন থেকে জেনে নিতে পারবেন চট্টগ্রাম বিভাগের দর্শনীয় স্থান সমূহ সম্পর্কিত সকল তথ্য।
বাংলাদেশের পর্যটনের জন্য অন্যতম একটি আকর্ষণীয় জায়গা হল চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামকে অপরূপ সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্যময়ের লীলাভূমি বলা হয়। এবং চট্টগ্রাম বিভাগ বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ও বৈচিত্রময় পর্যটন কেন্দ্র।
এখানে আপনি পাহাড়ের সংমিশ্রণ দেখতে পারবেন এবং একই সাথে আপনি যদি সমুদ্রে সংমিশ্রণ দেখতে চান তাহলেও সেটিও দেখতে পারবেন। এছাড়াও আপনি যদি প্রকৃতি প্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে প্রকৃতির এক অপরূপ লীলাভূমি আপনি সেখানে দেখতে পারবেন৷
তাহলে আর দেরি না করে এখনই দেখে নেয়া যাক, চট্টগ্রাম বিভাগের দর্শনীয় স্থান সমূহের পরিচয় এবং সেখানে যাওয়ার ধাপ সমূহ।
পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
আপনি যদি পাহাড় পছন্দ করে থাকেন, তাহলে পাহাড় এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখার জন্য চট্টগ্রাম আপনার জন্য একটি আদর্শ জায়গা হতে পারে।
চট্টগ্রামের বেশ কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে আপনি পাহাড়ের সংমিশ্রণ এবং একই সাথে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
জেনে নিন: মোটরসাইকেল কেনের আগে যে বিষয়গুলো জেনে নেয়া প্রয়োজন
বান্দরবান
চট্টগ্রাম বিভাগের দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে অন্যতম বান্দরবান জেলায়।এখানে রয়েছে বিভিন্ন এলাকা জুড়ে পাহাড় এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ যায়গাসমুহ। বান্দরবান জেলায় যে সমস্ত পর্যটন স্পটে আপনি এই সমস্ত, অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন সেগুলোর মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু নিচে তুলে ধরা হলো।

নীলগিরি: যা চট্টগ্রাম বিভাগের দর্শনীয় স্থান গুলোর একটি আকর্ষণীয় স্পট। তাছাড়া এটি বাংলাদেশের অন্যতম উচ্চতম পর্যটন কেন্দ্র৷ এটিকে অনেকেই মেঘের রাজ্য বলে থাকে, এর কারণ এই পর্যটন কেন্দ্রে আপনি যদি উপস্থিত হতে পারেন, তাহলে আপনি মেঘের প্রায় কাছাকাছি চলে আসবেন।
আপনার কাছে এরকম মনে হবে যে আপনি মেঘ ছুঁয়ে ফেলতে পারবেন। আর চট্টগ্রাম বিভাগের দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে সবচেয়ে উচ্চতর পর্যটন কেন্দ্র।
বান্দরবান থেকে নীলগিরি
-
প্রথমে বান্দরবান শহরে চলে যেতে হবে।
-
পরে সেখান থেকে নীলগিরি যাওয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে চাঁদের গাড়ি অর্থাৎ জীব ভাড়া করে নিতে হবে।
-
এবং সেখানে যাওয়ার পথে অবশ্যই আর্মি চেকপোস্টে নাম-ঠিকানা এন্ট্রি করতে হবে।
-
পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পাড়ি দিতে হবে।
-
পারি দেয়ার পর শেষে আপনি সুন্দর নীলগিরি ভিউপয়েন্টে পৌঁছে যাবেন।
নীলাম্বরি (নীলাচল): বান্দরবান শহরের কাছেই অসাধারণ ভিউ পয়েন্ট। এখানে যদি আপনি যান, তাহলে প্রকৃতির অসাধারণ লীলাভূমি দেখতে পারবেন এবং একই সাথে প্রকৃতিকে আপনি উপভোগ করতে পারবেন।
আপনার মন যদি খারাপ থাকে তাহলে আপনি চট্টগ্রাম বিভাগের দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে থেকে সেখানে ভিজিট করতে পারেন এবং মন ভালো করতে পারেন।
বান্দরবান থেকে নীলাম্বরি
- প্রথমে বান্দরবান শহর থেকে সিএনজি বা জীব ভাড়া করে নিতে হবে ৩০০-১০০০ টাকার ভিতরে।
- তারপর আপনাকে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পাহাড়ি রাস্তায় যাত্রা করতে হবে।
- পরবর্তীতে সেখানে পৌঁছে প্রবেশ টিকে সংগ্রহ করে নিতে হবে।
বগা লেক: এটি চট্টগ্রাম বিভাগের দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে একটি রহস্যময় পর্যটন কেন্দ্র। আর এটি হলো রহস্যময় একটি হ্রদ, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৪০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত।
আর এই হ্রদ কে রহস্যময় বলার কারণ, এর পেছনে থাকা গল্প ও সুনির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না থাকায়।
বান্দরবান থেকে বাগা লেক
- প্রথমে আপনাকে বান্দরবান শহরে পৌঁছাতে হবে।
- সেখান থেকে আপনি প্রথমে রুমা বাজার।
- এবং পরে রুমা থেকে চাঁদের গাড়িতে করে বগা লেকের উদ্দেশ্য যাত্রা শুরু করবেন।
- তারপর ১-২ ঘণ্টা ট্রেকিং করার পর আপনি বগা লেকে পৌঁছে যাবেন।
থানচি ও রেমাক্রি ঝর্ণা: এছাড়া আপনি যদি ট্রাকিং প্রেমী হয়ে থাকেন, তাহলে, ট্রেকিংপ্রেমীদের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগের দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে এটি একটি আদর্শ স্থান।
বান্দরবান থানচি ও রেমাক্রি ঝর্ণা
- প্রথমে বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়ি ভাড়া করে নিতে হবে এবং তাতে করে থানচি চলে যেতে হবে।
- পরবর্তীতে থানচি থেকে নৌকা এবং কিছুট পথ ট্রেকিং করে রেমাক্রি ঝর্ণা পৌঁছাতে হবে।
- তবে সেখানে যাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই আর্মি ক্যাম্পে নাম এন্টি করতে হবে।
রাঙ্গামাটি
রাঙ্গামাটি জেলায় অসাধারণ কিছু পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। এবং এই সমস্ত পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু পর্যটন কেন্দ্র নিচে তুলে ধরা হলো।

কাপ্তাই লেক: আপনি যদি নৌ ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন তাহলে প্রমাণের জন্য অন্যতম বিখ্যাত একটি জায়গা হতে পারে কাপ্তাই লেক। বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ হল এটি। যা আপনার মন ভালো করে দেবে। তাই আপনি যদি চট্টগ্রাম বিভাগের দর্শনীয় স্থান গুলো ভ্রমণ করে থাকেন তাহলে এটা ভ্রমণ করতে ভুলবেন না।
রাঙ্গামাটি থেকে কাপ্তাই লেক
- প্রথমে বান্দরবান থেকে চট্রগ্রাম চলে যেতে হবে।
- এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে বাসে করে আপনি সহজে রাঙ্গামাটি পৌঁছে যেতে পারবেন।
- তারপর সেখান থেকে লোকাল অটো করে লেকে চলে যেতে পারবেন।
ঝুলন্ত সেতু: এছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের দর্শনীয় স্থান এর অন্যতম আরেকটা আকর্ষণ হল ঝুলন্ত সেতু। মূলত এটি চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি জেলার একটি অন্যতম আকর্ষণ।
যা আপনি কাপ্তাই লেক এর সাথে দেখতে পারবেন যার জন্য আপনাকে অতিরিক্ত ভ্রমণ করতে হবে না।
সুবলং ঝর্ণা: যেখানে নৌকায় ভ্রমণ করে সহজেই পৌঁছানো যায়। যা চট্টগ্রাম বিভাগের দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে নৌকা ভ্রমণের জন্য অন্যতম।
- সেখানে যাওয়ার জন্য আপনাকে শুধু কাপ্তাই লেক থেকে নৌকা ভাড়া করে নিতে হবে।
- এবং নৌকা করে আপনি সহজে পৌঁছে যাবে সুবল ঝর্ণায়।
রাজবন বিহার: যে সমস্ত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী রয়েছেন, সে সমস্ত বৌদ্ধ ধর্ম আলমগীরের জন্য প্রধান উপাসনালয় হিসেবে পরিচিত হলো রাজবন বিহার৷ তাই এই ধরনের লোকেরা সেখানে যেতে পারেন। যা চট্টগ্রাম বিভাগের দর্শনীয় স্থান গুলোর একটি আকর্ষণীয় ধর্মীয় জায়গা বৌদ্ধ দের জন্য।
- আপনি যদি রাঙ্গামাটি থেকে রাজবন বিহার যেতে চান সেইক্ষেত্রে শুধু সেখান থেকে লোকাল অটো ভাড়া করে চলে যেতে পারবেন।
সমুদ্র ও সৈকত
একজন সমুদ্র প্রেমী হিসেবে আপনার জন্য বিভিন্ন রকমের পর্যটনের জায়গা রয়েছে চট্টগ্রামে। যে বা যারা সমুদ্র দেখতে পছন্দ করেন কিংবা যারা সমুদ্র প্রেমী রয়েছেন, তাদের জন্য এটি অন্যতম একটি আকর্ষণীয় জায়গা।
আপনি হয়তো এই সম্পর্কে জানেন যে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, যা প্রায় ১২০ কিঃমিঃ লম্বা সেটি চট্টগ্রামে অবস্থিত। তাই এটিকে চট্টগ্রাম বিভাগের দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্য থেকে মূল স্পট স্থান বলা যেতে পারে।
কক্সবাজার
সমুদ্র সৈকত হিসেবে এটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। এখান থেকে সূর্যোদয় দেখা যায় এবং সূর্যাস্ত দেখা যায়। এছাড়াও, শীতের মৌসুমে এসে এখানে অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে।

হিমছড়ি ও ইনানী বিচ
পাহাড় এবং সমুদ্রের অসাধারণ মিশ্রণ দেখতে গেলে এই জায়গায় ভ্রমণ করা যেতে পারে। এটি হল একটি অসাধারণ জায়গা যেখানে পাহাড় এবং সমুদ্রের অসাধারণ মিশ্রণ দেখা যায়।
তাই আপনি যদি পাহাড় এবং সমুদ্রের অসাধারণ মিশ্রণ দেখতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে হিমছড়ি বা ইনানী বিচে যেতে পারেন।
মহেশখালী দ্বীপ
এখানে আদিনাথ মন্দির ও ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে। অর্থাৎ আপনি যদি ম্যানগ্রোভ বন পছন্দ করে থাকেন আপনি যদি প্রকৃতির মধ্যে হারিয়ে যেতে চান তাহলে আপনি মহেশখালী দ্বীপে চলে আসতে পারেন।
এখানে এসে আপনি প্রকৃতির অসাধারণ সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে পারেন। এবং একই সাথে আপনার মন যদি খারাপ থাকে তাহলে এখানে চলে আসার মাধ্যমে আপনার মন ভালো করে ফেলতে পারেন৷
মোট কথা হলো পরিবার কিংবা বন্ধুদের সাথে আকর্ষণীয় সময় অতিবাহিত করার জন্য এই সমস্ত পর্যটন স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ
আপনি কি জানেন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ কোনটি? বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হলো, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ৷ এটি হলো বাংলাদেশের অন্যতম একটি সৌন্দর্যমন্ডিত জায়গা৷

আপনি যদি এই জায়গায় যেতে চান, তাহলে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে জাহাজে করে যেতে পারেন৷ যদিও অনেক ক্ষেত্রে এখানে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ তারপরেও হাজার হাজার পর্যটক সেখানে প্রতিনিয়ত গ্রহণ করে এই সুন্দর্য উপভোগ করার জন্য৷
আপনি যদি সচ্ছ নীল পানি দেখতে চান, করাল-রিফ, এবং একই সাথে সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তাহলে সেন্টমার্টিন দ্বীপ আপনার জন্য অসাধারণ একটি জায়গা হতে পারে।
পতেঙ্গা ও পারকি সৈকত
এটি চট্টগ্রাম শহরের কাছাকাছি হওয়ার কারণে এটি অন্যতম জনপ্রিয় একটি পিকনিক স্পট। আপনি যদি কর্ণফুলী নদীর মোহনার পাশে সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে চান, তাহলে এই জায়গাটি আপনার জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে।
এছাড়া অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে এই জায়গাটি বিখ্যাত। যার কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন এবং এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন।
চট্টগ্রাম শহরে পর্যটনের জন্য আরো কিছু অসাধারণ জায়গা
আপনি যদি ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং স্থাপত্য দেখতে চান, তাহলে চট্টগ্রামের একটি অন্যতম জায়গা যেখান থেকে আপনি হইতেছে দর্শন এবং স্থাপত্য শৈলি উপভোগ করতে পারবেন।
চট্টগ্রাম শহরে অসাধারণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে, যে সমস্ত জায়গা ভ্রমণ করা যেতে পারে কিংবা যে সমস্ত জায়গায় আপনার লিস্টে রাখতে পারেন সেগুলোর মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু হল:
- বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার: অনেকের কাছে ধর্মীয়ভাবে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা৷
- চট্টগ্রাম যুদ্ধ কবরস্থান: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈন্যদের কবর স্থান।
- চট্টগ্রাম জাদুঘর: প্রাচীন নিদর্শন এবং ঐতিহাসিক ইতিহাস সম্পর্কিত রয়েছে এখানে।
- কর্ণফুলী নদী এবং নৌ বন্দর: দেশের প্রধান বন্দর এবং ঐতিহ্যের একটি অংশ।
যে বা যারা ভ্রমণ প্রেমী রয়েছেন, তাদের জন্য অন্যতম ঐতিহাসিক জায়গা হল চট্টগ্রাম। আপনি যদি ভ্রমণ করতে চান, তাহলে চট্টগ্রামের ভ্রমণ করার মত এরকম কয়েক শত পর্যটন স্পট রয়েছে, যেখানে আপনি গ্রহণ করতে পারবেন।
সৌন্দর্যের সকল উপভোগ ও মহিমান্বিত আপনি চট্টগ্রাম বিভাগের দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করার মাধ্যমে পেয়ে যাবেন। সেজন্য আপনি যদি ভ্রমন করতে চান, তাহলে চট্টগ্রামকে আপনার পছন্দের তালিকা রাখতে পারেন।
