কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত কোন সুরা ( দেখে নিন)
কুরআনের যতগুলো আয়াত রয়েছে প্রায় প্রত্যেকটি আয়াত আমাদেরকে শিক্ষা দেয়।এরই মধ্যে থেকে অন্যতম একটি আয়াতের অংশ হল, কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত। এখন প্রশ্ন হল, কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত কোন সুরা?
অর্থাৎ এই আয়াতের যে অংশবিশেষ রয়েছে সেই অংশবিশিটি কোন সূরায় এবং কত নং আয়াতে রয়েছে সেই সম্পর্কিত তথ্য অনেকেই সংগ্রহ করে নিতে চান। আপনি এখান থেকে এই সম্পর্কে বিস্তারিত সংগ্রহ করে নিতে পারবেন।
কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত কোন সুরা?
কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত.! كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ বাংলা উচ্চারণ: ‘কুল্লু নাফসিন জায়িকাতুল মাউত’ অর্থ: ‘প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু ‘ (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)।
বিজ্ঞান তত্ত্ব: মানুষ কেন পুরনো জিনিস ভালোবাসে
আপনি যদি সূরা আল ইমরানের ১৮৫ নং আয়াতের দিকে লক্ষ্য করেন, তাহলে দেখতে পারবেন সূরা আল ইমরানের ১৮৫ নং আয়াতের পরিপূর্ণ অংশটি হলো:
Ali ‘Imran ( 3 : 185 )
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ ٱلْمَوْتِ ۗ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ ۖ فَمَن زُحْزِحَ عَنِ ٱلنَّارِ وَأُدْخِلَ ٱلْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ ۗ وَمَا ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَآ إِلَّا مَتَـٰعُ ٱلْغُرُورِ
প্রতিটি জীবন মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করবে এবং ক্বিয়ামাতের দিন তোমাদেরকে পূর্ণমাত্রায় বিনিময় দেয়া হবে। যে ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা করা হল এবং জান্নাতে দাখিল করা হল, অবশ্যই সে ব্যক্তি সফলকাম হল, কেননা পার্থিব জীবন ছলনার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।
কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত কোন সুরা ও তার পেক্ষাপট
এছাড়াও, কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত এই অংশটি সূরা আনকাবুতে বিদ্যমান রয়েছে। সূরা আনকাবুতের ৫৭ নং আয়াতে রয়েছে, এই শব্দগুলো।
Al-‘Ankabut ( 29 : 57 )
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ ٱلْمَوْتِ ۖ ثُمَّ إِلَيْنَا تُرْجَعُونَ
প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে, অতঃপর আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।
কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত কোন সুরা ও তার পেক্ষাপট
আয়াতের তাফসির বা ব্যাখ্যা
জামি আল বায়ান, তাঁর বিখ্যাত তাফসির এ তিনি বলেন, “প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে” অর্থ হলো আল্লাহর সৃষ্টি জগতের সব জীবই মৃত্যুর অধীন। কেউ এর বাইরে নয়। এরপর সকলকে পুনরুত্থিত করে তাদের আমলের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে।
রেফারেন্স: আল-তাবারী, জামি‘ আল-বায়ান, সূরা আলে ইমরান ৩:১৮৫-এর তাফসির

তাছাড়া আমরা যদি সাধারণ ভাব বলতে চাই কুর-আনের কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত এই আয়াত এর মাধ্যমে প্রত্যেক সৃষ্টিরই মৃত্যু নির্ধারিত তা মনে করিয়ে দেয়। যে জন্মেছে, সে মরিবে। মানুষ, ফেরেশতা, জিন, এমনকি আসমান-জমিনের সব কিছুই শেষ হয়ে যাবে। মৃত্যু থেকে কেউ পালায়ন করিতে পারবে না।

তাছাড়া অন্যভাবে বলতে গেলে জিন এবং মানুষের জন্য দুনিয়া হলো একটি পরীক্ষার কেন্দ্র। আর সেই পরীক্ষার শেষ মূহুর্ত মৃত্যু। তাই মৃত্যুর পর শুরু হয় ফলাফলের দিন অর্থাৎ কিয়ামত। যেখানে প্রত্যেক প্রাণীরই তার কার্যক্রমের জবাবদিহি করিতে হবে।
আয়াত নাজিল এর প্রেক্ষাপট
কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত আয়াত নাজিলের সাধারণ পেক্ষাপট যদি বলা হয় তাহলে এটা বলা যেতে পারে আল্লাহ মানুষ ও জিন সম্প্রদায়কে জানিয়েছেন দুনিয়া অস্থায়ী অর্থাৎ দুনিয়ার ধন-সম্পদ, সাফল্য, ক্ষমতা নিয়ে ব্যস্ত না হয়ে আল্লাহ কে ভয় করো। কেননা তুমাদের কে অবশ্য তার কাছে পূর্ণ-উত্তান হতে হবে।
অর্থাৎ এই আয়াত দ্বারা আমরা বুঝতে পারি আল্লাহ আমাদের মনে করিয়ে দেয় এ সবই মৃত্যুর কাছে অস্থায়ী। এবং মৃত্যু নিশ্চিত, আর কারও পক্ষে তা এড়ানো সম্ভব নয়।
তাই প্রত্যেক মুসলিম নর ও নারীর মৃত্যু সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক এবং নিজের মধ্যে সেই পরবর্তী জীবনের জন্য ভয় স্থাপন করা।
আশা করি আজকের এই নিবন্ধন থেকে আপনি অবশ্যই কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত কোন সূরা বিদ্যমান রয়েছে, এবং এই আয়াত দ্বারা কি বুঝিয়েছেন সে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে নিতে পেরেছেন।
Also Read: অনলাইনে বয়স্ক ভাতা আবেদন করার সকল নিয়ম